বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাণী তিমিরাও যে গান গাইতে পারে সেটি বেশ আশ্চর্যের। তবে সব সময় নয়,কেবলমাত্র ভালো খাবার খেতে পেলেই গান গায় তারা। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ কয়েক বছরের এক গবেষণায়।
তিমির গান পিয়ানোর চেয়ে বেশি বিস্তৃত। এগুলো বেশ শক্তিশালী কম্পনের মাধ্যমে এমনভাবে সৃষ্টি হয় যা এক অনন্য সংস্করণে পৌঁছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় বেলিন তিমি প্রজাতির বাস্তুতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া তাদের গানে শোনা যায়।
ছয় বছরের গবেষণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে তিমি শিকারের আবাসস্থলে হয়েছিল। এই জৈবিকভাবে সমৃদ্ধ আবাসস্থল থেকে, তিমিরা প্রতি বছর দীর্ঘ দূরত্বে চলে যায় নিম্ন অক্ষাংশে প্রজনন আবাসস্থলে।
তারা তাদের অভিবাসন এবং শীতকালীন প্রজনন মৌসুমে সামান্য কিছুও খায় না। তাই তাদের চারণ আবাসস্থলে বার্ষিক বসবাসের সময় তাদের শক্তির ভাণ্ডার তৈরি করতে হয়। ্এই শক্তি, তাদের বিশাল দেহে সঞ্চিত থাকে। কয়েক মাসের দূর-দূরান্তের ভ্রমণ, সঙ্গম, বাছুর পালন এবং শুশ্রূষার মাধ্যমে তদের শক্তি দেয়।
নীল তিমি শুধুমাত্র ক্রিল খায়, হাম্পব্যাক তিমিরা ক্রিল এবং ছোট স্কুলিং মাছ যেমন অ্যাঙ্কোভি খায়। যদি শিকারের প্রজাতিগুলো প্রচুর এবং ঘনীভূত অবস্থায় থাকে তবে তিমি আরও দক্ষতার সঙ্গে বিচরণ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছিলেন বাস্তুতন্ত্রের এই পরিবর্তনগুলো তিমির শাব্দিক আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে কিনা?
গান গাওয়ার ঘটনা ট্র্যাক করতে, গবেষকরা মন্টেরি অ্যাক্সিলারেটেড রিসার্চ সিস্টেমের মাধ্যমে অর্জিত অডিও রেকর্ডিং পরীক্ষা করেছেন। শব্দ রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিমির শব্দ দূর থেকে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। হাইড্রোফোনের আশেপাশে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটারের মধ্যে কোথাও যদি একটি তিমি গান গায়, তা যে কেউ শুনতে পাবে
তিমির আচরণগত বাস্তুবিদ্যার জটিল ধাঁধা একত্রিত করার জন্য বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতির প্রয়োজন। গবেষণায় সাউন্ড রেকর্ডিং, ফটো শনাক্তকরণ এবং খাদ্য বিশ্লেষণসহ তিমিদের পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণাটি ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল। তিনটি তিমির ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, তিনটি তিমি প্রজাতিই তাপপ্রবাহের সময় সবচেয়ে কম গান গেয়েছিল এবং পরবর্তী দুই বছরে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আরও বেশি গান গেয়েছিল।
(আন্তর্জাতিক ডেস্ক) সূত্র: দ্য কনভারসেশন